খাগড়াছড়ি, , শনিবার, ৬ জুন ২০২০

এমএলই কর্মসূচী বাস্তবায়নে প্রতিবন্ধকতাসমূহ চিহ্নিতকরণ ও করণীয় নির্ধারণ শীর্ষক কর্মশালা অনুষ্ঠিত

প্রকাশ: ২০২০-০৩-১৩ ১০:৫৫:০০ || আপডেট: ২০২০-০৩-১৩ ১৪:২৭:১০

নিজস্ব প্রতিবেদক: খাগড়াছড়ি সদর উপজেলার উপজেলা শিক্ষা অফিস, উপজেলা রিসোর্স সেন্টার ও জাবারাং এর যৌথ উদ্যোগে বৃহস্পতিবার স্থানীয় বেসরকারী উন্নয়ন সংস্থা জাবারাং কল্যাণ সমিতি’র হল রুমে চাকমা, মারমা ও ককবরক ভাষী শিশুদের মাতৃভাষায় পাঠদান কার্যক্রম বাস্তবায়নে প্রতিবন্ধকতাসমূহ চিহ্নিতকরণ ও করণীয় নির্ধারণ শীর্ষক কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

উপজেলা রিসোর্স সেন্টার ইনস্ট্রাক্টর, খাগড়াছড়ি সদর রিন্টু কুমার চাকমার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত কর্মশালায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা পরিষদের সদস্য ও প্রাথমিক শিক্ষা বিভাগের আহবায়ক মংক্যচিং চৌধুরী ও বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার ফাতেমা মেহের ইয়াসমিন ।

কর্মসূচি সমন্বয়কারী বিনোদন ত্রিপুরার সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত কর্মশালায় বিশেষ অতিথি হিসেবে আরও উপস্থিত ছিলেন জাবারাং কল্যাণ সমিতির নির্বাহী পরিচালক মথুরা বিকাশ ত্রিপুরা, খাগড়াছড়ি সদর উপজেলার সহকারি উপজেলা শিক্ষা অফিসার মো: মঞ্জুর মোর্শেদ, এডিন চাকমা ও সুভায়ন খীসা প্রমূখ।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে খাগড়াছড়ি জেলা পরিষদ সদস্য মংক্যচিং চৌধুরী বলেন, জেলায় শিক্ষা বিষয়ক সকল ভালো কাজের সাথে স্থানীয় বেসরকারী উন্নয়ন সংস্থা হিসেবে জাবারাং তার সামর্থ্য অনুযায়ী নানাভাবে ভূমিকা রেখে চলেছে। জেলার শিক্ষার মান উন্নয়নে বিশেষ করে প্রাথমিক শিক্ষায় এ সংস্থা দীর্ঘদিন ধরে অবদান রেখে চলেছে। পার্বত্য জেলার চাকমা, মারমা ও ককবরক শিশুদের জন্য মাতৃভাষায় শিক্ষা প্রদানে জাবারাং অনেকদিন ধরে কাজ করছে। কর্মশালায় চিহ্নিত সীমাবদ্ধতাসমূহ নিয়ে কর্তৃপক্ষের নিকট দৃষ্টি আকর্ষণ করতে সহযোগিতা প্রদানের আশ্বাস দেন। বিদ্যালয়ে শ্রেণিকক্ষের সংকট প্রসঙ্গে তিনি বলেন, যে সমস্ত বিদ্যালয়ে নতুন ভবন হয়েছে সেগুলোতে মেরামতযোগ্য পুরাতন ভবন ব্যবহারের পরামর্শ দেন। বিশেষ অতিথি হিসেবে জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা ফাতেমা মেহের ইয়াসমিন বলেন, সরকার বিদ্যালয়ে পাঠ্যবইসহ সম্পুরক শিক্ষা উপকরণ সরবরাহ করেছে। এইবছর সীমিত পরিসরে হলেও প্রাথমিক শিক্ষক প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট মাতৃভাষায় শিক্ষক প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করেছে। জাবারাং মানুষের জন্য ফাউন্ডেশনের অর্থায়নে সেতু এমএলই প্রকল্পের উদ্যোগে ২০১৯ সাল থেকে ৩৫টি বিদ্যালয়ে মাতৃভাষায় পাঠদানের ব্যবস্থা করতে বিভিন্ন ব্যাচে শিক্ষক প্রশিক্ষণ দিয়ে চলেছে। এই কর্মশালার মাধ্যমে চিহ্নিত সীমাবদ্ধতা ও সুপারিশমালা নিয়ে তার বিভাগের পক্ষ হতে পার্বত্য জেলা পরিষদ ও অধিদপ্তরে প্রেরণের উদ্যোগ নিবেন বলেও জানান।

কর্মশালার শুরুতে প্রেজেন্টেশনের মাধ্যমে জাবারাং সংস্থার নির্বাহী পরিচালক মথুরা বিকাশ ত্রিপুরা মাতৃভাষায় শিক্ষা কার্যক্রমের বর্তমান পরিস্থিতি এবং সরকারের ইতিবাচক গৃহীত পদক্ষেপের কথা তুলে ধরেন। উপস্থাপন শেষে কর্মশালায় আগত ৯জন প্রধান শিক্ষক, ৯জন সহকারী শিক্ষক, ৩জন কমিউনিটি প্রতিনিধি ও ৪জন শিক্ষা কর্মকর্তার দল ৪ টি দলে ভাগ হয়ে অংশগ্রহনমূলক পদ্ধতিতে প্রতিবন্ধকতা ও করণীয় বের করেন।

দলীয় আলোচনায় প্রাপ্ত সীমাবদ্ধতা ও করণীয়সমূহের মধ্যে সরকারি পর্যায়ে এমএলই পাঠ্যপুস্তক ব্যবহারে সুর্নিদিষ্ট নির্দেশনা না থাকা, এমএলই ব্রিজিং (মাতৃভাষা থেকে অন্যান্য ভাষায় সেতুবন্ধন) পদ্ধতি সম্পর্কে মাঠ পর্যায়ে সুষ্পষ্ট ধারণা না থাকা, দৈনিক ক্লাশ রুটিনে মাতৃভাষায় শিক্ষা বিষয়ে কোন কর্ম পরিকল্পনা না থাকা, স্থানীয় ভাষায় শিক্ষক প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা পর্যাপ্ত নয়, প্রাক-প্রাথমিক হতে তৃতীয় শ্রেণি পর্যন্ত শ্রেণিভিত্তিক মাতৃভাষায় সম্পূরক শিক্ষা উপকরণের অভাব, একই শ্রেণিতে বহু ভাষাভাষি শিক্ষার্থী কিন্তু সে অনুসারে শিক্ষক পদায়ন না থাকা উল্লেখযোগ্য। সুপারিশমালায় যেগুলো আছে তাদের মধ্যে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর, এনসিটিবি, ন্যাপ থেকে এমএলই কার্যক্রম বাস্তবায়নে সুনির্দিষ্ট দিক নির্দেশনা প্রদান করা, প্রতিবছর পর্যাপ্ত এমএলই সম্পুরক উপকরণ উপকরণ সরবরাহ করা, পিটিআই-এর মাধ্যমে প্রতিবছর মাতৃভাষায় শিক্ষক প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা রাখা, শিক্ষক নিয়োগ প্রক্রিয়ায় মাতৃভাষায় দক্ষতার বিষয়টি প্রাক-যোগ্যতা হিসেবে অন্তর্ভূক্ত করা বিশেষ উল্লেখযোগ্য।

Leave a Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

পূর্বের সংবাদ

June 2020
M T W T F S S
 1
2345678
9101112131415
16171819202122
23242526272829
3031  

এই সপ্তাহের আলোকিত পাহাড় শেষ পাতা

বিজ্ঞাপন