খাগড়াছড়ি, , মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২০

এমএলই অনলাইন স্কুল ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর শিশুদের মূলধারার শিক্ষার সাথে যুক্ত করতে ভূমিকা রাখবে- খাগড়াছড়ি জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান কংজরী চৌধুরী

প্রকাশ: ২০২০-১০-১০ ২৩:৪১:৪৪ || আপডেট: ২০২০-১০-১০ ২৩:৪৪:০৫


খাগড়াছড়ি প্রতিনিধি: খাগড়াছড়ি উপজেলা সদরের রিসোর্স সেন্টারে দেশের চাকমা, মারমা ও ককবরক সহ গারো ও সাদ্রি ভাষার নৃগোষ্ঠীদের মাতৃভাষায় ডিজিটাল ক্লাসের একমাত্র প্লাটফরম এমএলই অনলাইন স্কুলের পাঠদান কার্যক্রমের মূল্যায়ন সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

১০ অক্টোবর ২০২০ শনিবার এমএলই অনলাইন স্কুল পরিচালনা কমিটির সহ সভাপতি ও জাবারাং কল্যাণ সমিতির নির্বাহী পরিচালক মথুরা বিকাশ ত্রিপুরার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মূল্যায়ন সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পরিচালনা কমিটির সভাপতি ও খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান কংজরী চৌধুরী

সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পানছড়ি উপজেলা শিক্ষা অফিসার সুজিত মিত্র চাকমা, খাগড়াছড়ি সদর উপজেলার রিসোর্স সেন্টার ইন্সট্রাক্টর ও পরিচালনা কমিটির সাধারণ সম্পাদক রিন্টু কুমার চাকমা, খাগড়াছড়ি সদর উপজেলার সহকারি উপজেলা শিক্ষা অফিসার ও পরিচালনা কমিটির তথ্য ও প্রচার সম্পাদক এডিন চাকমা, পানছড়ি উপজেলার সহকারি উপজেলা শিক্ষা অফিসার ও কমিটির সহ অর্থ সম্পাদক সঞ্চয়ন চাকমা ও খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা পরিষদের জনসংযোগ কর্মকর্তা লেখক ও গবেষক চিংলা মং চৌধুরী প্রমুখ।

অনলাইনে অন্যান্য মাধ্যমের মতো মাতৃভাষায় পাঠদানের এই ডিজিটাল প্লাটফরমের সূচনা নি:সন্দেহে সরকারের সবার জন্য শিক্ষা অর্জনে এবং বহু শিক্ষার্থীদের ঝরে পড়ার হাত থেকে রোধ করতে ভূমিকা রাখবে বলে মত প্রকাশ করেন প্রধান অতিথি খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান কংজরী চৌধুরী। তিনি যুগান্তকারী এমন একটি উদ্যোগ গ্রহণের জন্য প্রাথমিক শিক্ষা পরিবারের সকল স্তরের কর্মকর্তা, শিক্ষক ও এনজিও সংস্থা জাবারাং-এর সংশ্লিষ্ট সকলকে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন। এ মাধ্যমে ভাষা বিশেষজ্ঞরাও ক্লাস পর্যবেক্ষণ করার সুযোগ আছে, তাই প্রথমবার হিসেবে আমাদের ক্লাসের ভাষাগত ব্যবহার নিয়ে কোন সমালোচনা আসলে তা ইতিবাচকভাবে গ্রহন করে নিজেদের উন্নয়ন করতে পরামর্শ দেন। প্রধান অতিথি বলেন, এই মাতৃভাষাভিত্তিক অনলাইন শিক্ষা চালুর কারনে ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর শিক্ষার্থীদের মূল ধারার শিক্ষার সাথে সহজে যুক্ত করতে অবদান রাখতে পারবে। তিনি আরও বলেন, অনলাইন মাধ্যমে ক্লাস প্রচারের কারনে শুধুমাত্র শিশু শিক্ষার্থী নয় তাদের অভিভাবকরাও উপকৃত হতে পারবে। অনলাইন ক্লাস ভিডিও এডিটিং ও ক্লাস প্রচার কার্যক্রমের মান বাড়াতে এ সময় প্রধান অতিথি পরিচালনা কমিটির নিকট দুইটি ল্যাপটপ ও নগদ পঞ্চাশ হাজার টাকা হস্তান্তর করেন।

মূল্যায়ন সভায় অনলাইনে ক্লাস পাঠদানের অভিজ্ঞতার কথা বলতে গিয়ে সহকারি শিক্ষক কমলা দেবী ত্রিপুরা, ডায়না চাকমা ও ডলিপ্রু মারমা প্রত্যেকে নিজেদের প্রথমবার অনলাইনে ক্যামেরার সামনে দাঁড়ানোর জড়তা তারপর ধীরে ধীরে নিজেকে সাবলীলতার পর্যায়ে আনতে পারার পিছনে যারা দর্শকের সারিতে থেকে অনুপ্রেরণা যুগিয়েছেন, পাঠদানের প্রাক্কালে যারা নির্দেশনা দিয়ে সাহস ও উৎসাহ যুগিয়েছেন তাদের সকলের প্রতি কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করেন। যখন কোথাও বেড়াতে গিয়ে কোন শিশু বা অভিভাবক নিজেদের দিকে তাকিয়ে বলে, “ম্যাডাম, আপনি অমুক না? অনলাইনে আপনার ক্লাস দেখেছি। খুব সুন্দর হয়েছে।” তখন শিক্ষক হিসেবে সেটাই বড় প্রাপ্তি বলে মনে করেন এবং আগামীতে আরও ভালো কিছু করার ইচ্ছা তৈরি হয় বলে জানালেন পাঠদানকারী শিক্ষকবৃন্দ।

এ সময় এমএলই অনলাইন স্কুলের ক্লাস পাঠদানের মান বৃদ্ধি ও প্রাক-প্রাথমিক শ্রেণির পাঠদানের পাশাপাশি প্রথম শ্রেণির পাঠদান প্রস্তুতির পরিকল্পনা গ্রহন করতে ভাষাভিত্তিক গ্রুপ লিডারদের দৃষ্টি আকর্ষন করেন পরিচালনা কমিটির সহ সাধারণ সম্পাদক বিনোদন ত্রিপুরা।

Leave a Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.