খাগড়াছড়ি, , বুধবার, ২১ নভেম্বর ২০১৮

একে-৪৭সহ মিজোরামে ২ পাহাড়ি যুবক আটক; পার্বত্যাঞ্চল অশান্ত করার সম্ভাবনা

প্রকাশ: ২০১৮-০৫-৩০ ১৪:০৬:০৮ || আপডেট: ২০১৮-০৫-৩০ ১৪:০৬:০৮

নিজস্ব প্রতিবেদক: নিজেদের শক্তির জানান দিতে গিয়ে সম্প্রতি পাহাড়ে একের পর এক হত্যাযজ্ঞ চালিয়ে যাওয়া আঞ্চলিক রাজনৈতিক দলগুলো ইতিমধ্যেই আরো ব্যাপক আকারে সশস্ত্র সন্ত্রাসী কার্যক্রম চালানোর লক্ষ্যে বিপুল পরিমান অস্ত্র সংগ্রহের অভিযানে নেমেছে। নিরাপত্তা বাহিনীর চলমান যৌথ অভিযানকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে একের পর এক সশস্ত্র হামলার মাধ্যমে হত্যাযজ্ঞ চালানোর পাশাপাশি পার্শ্ববর্তী দেশগুলো থেকে অবৈধ উপায়ে ভারী ভারী মারনাস্ত্র সংগ্রহের চেষ্ঠাও করছে পার্বত্য চট্টগ্রামের আঞ্চলিত দলগুলো।

সাম্প্রতিক সময়ে পার্বত্য চট্টগ্রামে ঘটে যাওয়া চাঞ্চল্যকর হত্যাকান্ডগুলোর ঘটনাকে কেন্দ্র করে চরমভাবে প্রতিশোধ পরায়ন হয়ে উঠেছে আঞ্চলিক দলগুলো। আধিপত্য বিস্তার ও কোটি টাকা চাঁদা আদায়ের অন্যতম এই পাহাড়ি রুটটিতে নিজেদের আধিপত্য বজায় রাখতে নিয়ন্ত্রণহীন সশস্ত্র কার্যক্রমে জড়িয়ে পড়ছে এখানকার আঞ্চলিক দলগুলো।

একটি প্রভাবশালী গোয়েন্দা সংস্থার সম্প্রতিক একটি রিপোর্টে এমনই তথ্য উঠে আসে। সূত্রমতে, পাহাড়ের চলমান সশস্ত্র তৎপরতা আরো প্রকট আকারে চালানোর লক্ষ্যে সাজেকের সীমান্তবর্তী ভারত থেকে অস্ত্র সংগ্রহের অংশ হিসেবে আঞ্চলিক দলগুলো তাদের এক একটি গ্রুপকে সীমান্তের ওপারে ভারতে পাঠিয়েও দিয়েছে। যেকোনো সময় ভারতের আইজল রাজ্য থেকে অবৈধ অস্ত্রের চালান রাঙামাটির সাজেক সীমান্ত দিয়ে দোজর হয়ে অত্রাঞ্চলে প্রবেশ করবে।

গোয়েন্দা সংস্থাটির মাঠ পর্যায়ে থেকে এই তথ্য পাওয়ার মাত্র কয়েকদিনের মধ্যেই এবার ভারতেই বিদেশী অত্যাধুনিক একে-৪৭ রাইফেল নিয়ে আটক হয়েছে উপজাতীয় দুই যুবক। সীমান্তবর্তী সূত্র থেকে প্রাপ্ত তথ্যে জানাগেছে, সোমবার বিকেলে ভারতের আইজল এর মামিট জেলার সীমান্তবর্তী কানমুন পুলিশ স্টেশনে আটক হওয়া উক্ত দুই পাহাড়ি যুবকের নাম জীপু চাকমা ওরফে তন্ময় ও পলাশ ত্রিপুরা। আটককৃত তন্ময় খাগড়াছড়ি জেলার পানছড়ির জনৈক তজিব চাকমার ছেলে।

আটকৃত অপরজন পলাশ ত্রিপুরার বাড়ি রামগড় বলে জানা গেলেও তাদের ব্যাপারে বিস্তারিত জানাতে পারেনি সূত্রটি। সংশ্লিষ্ট্য সূত্রের দাবি উক্ত দুই যুবক সপ্তাহ খানেক আগে ত্রিপুরা সীমান্ত হয়ে ভারতে প্রবেশ করে। পরে তারা আইজল রাজ্যে গিয়ে সেখানের বিচ্ছিন্নতাবাদী সংগঠনের সাথে যোগাযোগ করে তাদের কাছ থেকে দু’টি অত্যাধুনিক একে-৪৭ রাইফেল ক্রয় করে।

সূত্রটির দাবি, আটককৃতরা কানমুন থানা পুলিশের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানায়, এই অস্ত্রগুলো নিয়ে মামিট জেলার কানমুন এলাকা হয়ে সাজেকের দোজর সীমান্ত দিয়ে বাঘাইছড়ি উপজেলায় নিয়ে আসার কথা ছিলো। কিন্তু তারআগেই কানমুন থানার বিশেষ টিমের সদস্যরা তাদের আটক করে। সীমান্তবর্তী নিরাপত্তা বাহিনীর দায়িত্বশীল সূত্র জানায়, আটককৃতরা সংস্কারপন্থী জেএসএস এর সক্রিয় সদস্য। আটককৃত তন্ময় চাকমার পিতা তজিব চাকমাও উক্ত দলের প্রভাবশালী নেতা। আর তন্ময় উক্ত সংগঠনের প্রশাসনিক ফিল্ড কমান্ডার এর দায়িত্বে ছিলো।

জানাগেছে, ভারতের মিজোরাম ও ত্রিপুরা রাজ্যের অরক্ষিত সীমান্ত পথ দিয়ে পার্বত্য চট্টগ্রামের আঞ্চলিক সংগঠনগুলোর হাতে অস্ত্র আসছে। পাহাড়ে যে চাঁদাবাজি হয়, সেই অর্থই ব্যয় করা হয় অত্যাধুনিক এসকল অস্ত্র কিনতে। ‘ভারতের সেভেন সিস্টার্স হিসেবে পরিচিত সাত রাজ্যের অরক্ষিত সীমান্ত পথই পাহাড়ে অস্ত্র আসার মূল পথ। সেভেন সিষ্টারের বিভিন্ন রাজ্যে মনিপুর লিবারেশন আর্মি, উলফাসহ বিভিন্ন সংগঠন এখনও সক্রিয়। তাদের নিজস্ব ব্যাটালিয়নও রয়েছে।

আবার নাগাদের সঙ্গে সম্পর্ক রয়েছে কাচিং ইনডিপেনডেন্ট আর্মি ও সান ন্যাশনাল আর্মির। বাংলাদেশ সীমান্তেও তাদের আনাগোনা রয়েছে। মূলত: পার্বত্যাঞ্চলের বিভিন্ন স্তর থেকে চাঁদাবাজির মাধ্যমে আদায়কৃত কোটি কোটি টাকা দিয়েই ভারত ও মায়ানমারের বিচ্ছিন্নতাবাদীদের কাছ থেকে অবৈধ অস্ত্র সংগ্রহ করছে পাহাড়ের আঞ্চলিক দলগুলো। পরবর্তীতে পাহাড়ে সশস্ত্র তৎপরতার মাধ্যমে ব্যাপকহারে চাঁদাবাজি, অপহরণ, খুনসহ বন্দুকযুদ্ধে লিপ্ত হচ্ছে আঞ্চলিকদলীয় সন্ত্রাসীরা।

Leave a Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

পূর্বের সংবাদ

November 2018
M T W T F S S
« Oct    
 1234
567891011
12131415161718
19202122232425
2627282930  

এই সপ্তাহের আলোকিত পাহাড় প্রথম পাতা

এই সপ্তাহের আলোকিত পাহাড় শেষ পাতা

বিজ্ঞাপন

error: Content is protected !!