ব্রেকিং নিউজ
GET STARTED

এই শীতে ঘুরে আসুন বাংলার দার্জিলিং সাজেক

%e0%a6%b8%e0%a6%be%e0%a6%9c%e0%a7%87%e0%a6%95বিনোদন ডেস্ক: গাছে গাছে নতুন সবুজ পত্রপল্লব, আগুন লাগা শিমুল, কৃষ্ণচূড়া, দোলন চাঁপার মতো নাম না জানা অসংখ্য বনফুল জানান দিচ্ছে প্রকৃতিতে ঋতুরাজ বসন্তের উপস্থিতি। আর বসন্ত সময়ে প্রকৃতিপ্রেমীদের হাতছানি দিয়ে ডাকে প্রকৃতির স্বর্গরাজ্য রাঙামাটির সাজেক।

বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তের উত্তর-পূর্ব কূলঘেঁষা রাঙামাটি জেলার বাঘাইছড়ি উপজেলার একটি ইউনিয়ন সাজেক এখন বাংলার দার্জিলিং। সাজেকের পাশেই ভারতের মিজোরাম।

বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ব্যাপক কর্মযজ্ঞে সাজেক এখন পরিণত হয়েছে ইউরোপের কোনো এক ছোট শহরে।ইউরোপের ধাঁচে আধুনিক আবাসন ব্যবস্থা, সড়ক নির্মাণ, সৌরবিদ্যুৎ দিয়ে স্ট্রিট ল্যাম্প (সড়ক বাতি), আর স্থানীয় আদিবাসীদের নিজস্ব ঐতিহ্য আমূল পরিবর্তন এনেছে সাজেক ইউনিয়নের।

এক দৃষ্টিতে সাজেক:
সাজেক ইউনিয়ন রাঙামাটি জেলায় অন্তর্গত হলেও সড়ক পথে যাতায়াত করতে হয় খাগড়াছড়ি দিয়ে। খাগড়াছড়ি জেলা শহর থেকে সাজেকের দূরত্ব আনুমানিক ৬০কি. মি.। আঁকাবাঁকা সর্পিল পাহাড়ি পথ পেরিয়ে যেতে হয় সাজেকে। যাওয়ার পথে চোখ ও মন আটকে যাবে পাহাড়ি নদী কাচালং-মাচালং-এর বয়ে চলা ও পাহাড়-ঝর্ণা দেখতে দেখতে। মূলত রুইলুই থেকে সাজেক পর্যটন কেন্দ্র শুরু। রুইলুই গ্রামে পাংখো, ত্রিপুরা  সম্প্রদায়ের বসবাস। তাদের বসতিগুলো (মাচাং) নির্মিত বাংলাদেশের পতাকার আদলে। ছনের ছাউনি ও চারদিকে বাঁশের তৈরি লাল-সবুজ রঙের বেঁড়া। বাড়িতে বাড়িতে সোলার প্যানেল। দেখেই মনে হবে এরা কতটুকু সাশ্রয়ী ও দেশপ্রেমিক।প্রাকৃতিক নৈসর্গিক জীবনে তাদের মাঝে নেই জটিলতার  কোনো ছোঁয়া। তাই সাজেকে গিয়ে অনেকে হারিয়ে যেতে পারেন প্রকৃতির এক স্বপ্নিল রাজ্যে।
Shajek Banglar Darjiling5
কংলাক থেকে সাজেক:
সাজেকের সর্বোচ্চ পাহাড় কংলাক পাহাড়। কংলাকের পর থেকে ভারতের সীমান্ত শুরু। রুইলুই পর্যটন স্পট থেকে ঘণ্টা খানেকের পথ কংলাক পাহাড়। কিছুটা গাড়ি চেপে গেলেও অনেকটা পথ পায়ে হাটঁতে হয়। কংলাক পাহাড়ে ২০-২৫টি পাংখোয়া (আদিবাসী) পরিবার বাস করে। দীর্ঘপথ হেঁটে ও পাহাড় ডিঙ্গিয়ে পাংখোয়াদের কংলাকে বসবাসের কারণ হচ্ছে ধর্মীয় বিশ্বাস। তাদের ধর্মীয় পুরাণ মতে সর্বোচ্চ চূড়ায় সৃষ্টিকর্তা সর্বদা বিরাজ করে। কংলাকে বেশকিছু পাথরের সমাধি রয়েছে। যেগুলো ব্রিটিশ আমলে নির্মিত বলে ধারণা সেখানকার অদিবাসীদের। কংলাক পাহাড় থেকে সাজেকের মূল সৌন্দর্য উপভোগ করতে পারেন মনের আনন্দে।
Shajek Banglar Darjiling2
রাত্রি যাপন:
সাজেকে রাত্রিযাপন না করলে যাওয়ার উদ্দেশ্য বৃথা। সাজেকের মূল সৌন্দর্য দেখা যায় রাতে ও প্রত্যুষে। রাতের সাজেকে যেন সহস্রাধিক তারার মেলা বসে। মাঝে মাঝে চোখে পড়ে দ্রুতগতিতে তারা খসে পড়া। আর ভোরের সাজেকে এমন এক আবহ সৃষ্টি হয় প্রকৃতিতে যা স্বচোখে না দেখলে উপলব্ধি করা সম্ভব নয়।
Shajek Banglar Darjiling1
উঁচু-নিচু পাহাড়ের সারিগুলোকে শুভ্র মেঘ ম্লান করে দেয়। সত্যিই অপরূপ।যা না দেখলে সাজেক দেখা অপূর্ণ রয়ে যায় বটে। সাজেকে রাত্রিযাপন করতে চাইলে আগে থেকে রিসোর্ট-হোটেলগুলোতে বুকিং করে রাখতে হয়। রিসোর্ট ছাড়াও সাজেকে রাত্রিযাপনে কমিউনিটি ট্যুরিজম ব্যবস্থাও চালু রয়েছে। ত্রিপুরা, লুসাই, পাংখোয়া আদিবাসীদের মাচাং ঘরে হতে পারেন রাত্রি যাপনের অতিথি। পেয়িং গেস্ট হিসেবে আপনাকে রাখবে এরা। তবে স্থানীয় আদিবাসীদের সঙ্গে  আনন্দ উপভোগ করতে হলে তাদের কাছাকাছি থাকাই শ্রেয়।
Shajek Banglar Darjiling6
যাওয়ার পরিবহন ব্যবস্থা:
ঢাকা বা যেকোনো স্থান থেকে প্রথমে আসতে হবে খাগড়াছড়ি। খাগড়াছড়ি থেকে মাইক্রোবাস ও জীপগাড়িতে রয়েছে সাজেকে যাওয়ার ব্যবস্থা। খাগড়াছড়ি থেকে সাজেকে আসা যাওয়ায় গাড়ি ভাড়া পাঁচ হাজার টাকা। তবে রাত্রিযাপন করলে গুনতে হবে সাত থেকে আট হাজার টাকা। এ ছাড়া মাইক্রোকার ভাড়া সাত থেকে আট হাজার টাকা। সাজেকে ঘুরতে আসা ঢাকার বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্র ফাহিম এবং তার দল মনে করেন সাজেকে ঘুরে আসার প্রকৃত সময় বসন্তকালে যার হাতছানি এখনই দিচ্ছে ভ্রমণ পিপাসুদের।

Leave a Reply

error: Content is protected !!