খাগড়াছড়ি, , সোমবার, ১৯ নভেম্বর ২০১৮

ইন্দো-বাংলা পাইপলাইন নির্মাণের কাজ শুরু হচ্ছে চলতি মাসে

প্রকাশ: ২০১৮-০৯-১৩ ২৩:২২:৩৭ || আপডেট: ২০১৮-০৯-১৩ ২৩:২২:৩৭

অনলাইন ডেস্ক: আমাদের দেশে সাধারণত তেল আমদানি করা হয় ট্রেন বা কার্গোর মাধ্যমে। এই ট্রেন বা কার্গোর মাধ্যমে তেল আমদানির ফলে পরিবহন খরচের ব্যয় বেশি বহন করতে হতো। এই ব্যয় হ্রাস করার জন্য এবার ভারত থেকে পাইপলাইনের মাধ্যমে তেল আসছে বাংলাদেশে।

দীর্ঘদিন আলোচনার পর চলতি বছরই এই পাইপলাইন নির্মাণের কাজ শুরু হচ্ছে। এই পাইপলাইনটি নির্মাণের ফলে বিপুল পরিমাণ পরিবহন খরচ এবং তেলের সিস্টেম লস কমানো যাবে। ২০২০ সালের ডিসেম্বর নাগাদ এই প্রকল্পের নির্মাণ কাজ শেষ করা হবে।

পাইপলাইনে তেল সরবরাহের আগে পরিশোধিত তেল পরিবহনের প্রধান মাধ্যম ছিল সামুদ্রিক জাহাজ, নৌ জাহাজ, ওয়াগন ট্রেন এবং ট্যাংক লরি। বিদেশ হতে আমদানি থেকে শুরু করে প্রান্তিক পর্যায় পর্যন্ত তেল সরবরাহে দীর্ঘকাল ধরে এ চার উপায় অবলম্বন করা হচ্ছে। কিন্তু এতে করে সময়, পরিবহন খরচ দুটিই বেশি লাগে। এজন্য সরকার পাইপলাইনের মাধ্যমে খনিজ তেল সরবরাহ করার ব্যাপারে গুরুত্বারোপ করেছে। এই প্রেক্ষিতে সরকার দেশে এবং দেশের বাহিরে দুটি পাইপলাইন নির্মাণের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। মোট ৬০০ কিলোমিটারের বেশি দৈর্ঘ্যের এ লাইনগুলো নির্মাণে প্রায় সাড়ে ৮ হাজার কোটি টাকা ব্যয় করা হবে। এর মধ্যে বিদেশ থেকে তেল আমদানির খরচ এবং সিস্টেম লস কমাতে ‘ইন্দো-বাংলা মৈত্রী পাইপলাইন’ নির্মাণের উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। ১৩০ কিলোমিটার দীর্ঘ পাইপলাইনটি ভারতের পশ্চিমবঙ্গের শিলিগুড়ি থেকে বাংলাদেশের পার্বতীপুর তেল ডিপো পর্যন্ত নির্মিত হবে।

প্রতিনিয়ত দেশে জনসংখ্যা বাড়ার সাথে সাথে দেশের জ্বালানি তেলেরও চাহিদা বাড়ছে। দেশে বর্তমান জ্বালানি তেলের চাহিদা প্রায় ৭০ লাখ মেট্রিক টন। এর মধ্যে আমদানি হচ্ছে প্রায় ৬৭ লাখ মেট্রিক টন। ইন্দো-বাংলা পাইপলাইন নির্মাণের মাধ্যমে আমদানিকৃত তেলের একটি বড় অংশ ওই পাইপলাইনের মাধ্যমে আমদানি করা হবে। ১৮ সেপ্টেম্বর শিলিগুড়িতে পাইপলাইন নির্মাণের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হবে। দুই দেশের প্রধানমন্ত্রী ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে এই নির্মাণ কাজের উদ্বোধন করবেন।

এই জ্বালানি তেল ভারতের আসামের নুমালীগড় রিফাইনারি (এনআরএল) থেকে পাইপলাইনে  সরবরাহ করা হবে। এ প্রকল্পের ব্যয় ধরা হয়েছে ৪২৯ কোটি টাকা। ১৩৫ কিলোমিটার দীর্ঘ পাইপলাইনের ১৩০ কিলোমিটার বাংলাদেশ অংশে এবং বাকি ৫ কিলোমিটার ভারতীয় ভূখণ্ডে স্থাপিত করা হবে। ভারতের অংশের পাইপলাইনের ব্যয় বহন করবে এনআরএল। ভারতীয় ঋণ সহায়তার মাধ্যমে বাংলাদেশের অংশের কাজ পরিচালনা করা হবে।

ইন্দো-বাংলা পাইপলাইনের বার্ষিক পরিবহন ক্ষমতা হবে ১০ লাখ টন। তবে ১৫ বছরের মধ্যে প্রথম তিন বছর আড়াই লাখ টন, এর পরের তিন বছর ৩ লাখ টন, সপ্তম থেকে ১০ম বছর পর্যন্ত সাড়ে তিন লাখ টন এবং ১১ থেকে ১৫তম বছর পর্যন্ত বার্ষিক ৪ লাখ টন ডিজেল আমদানি করা হবে। এই পাইপলাইন নির্মিত হলে দেশের উত্তরাঞ্চলে শুষ্ক মৌসুমে ডিজেলের সরবরাহ নিশ্চিত হবে।  এছাড়াও চট্টগ্রাম থেকে পার্বতীপুর পর্যন্ত সড়ক ও রেলপথে তেলের পরিবহন ব্যয়, অপচয় এবং ক্ষতি অনেকাংশে কমে আসবে।

ভারত-বাংলাদেশ এই পাইপলাইন নির্মাণের ফলে দুই দেশের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক আরও জোরদার হবে। দুই দেশের উন্নয়নের জন্য ভবিষ্যতেও এই ধারা অব্যাহত থাকবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্ট সকলে।

Leave a Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

পূর্বের সংবাদ

November 2018
M T W T F S S
« Oct    
 1234
567891011
12131415161718
19202122232425
2627282930  

এই সপ্তাহের আলোকিত পাহাড় প্রথম পাতা

এই সপ্তাহের আলোকিত পাহাড় শেষ পাতা

বিজ্ঞাপন

error: Content is protected !!