খাগড়াছড়ি, , সোমবার, ২১ জানুয়ারী ২০১৯

আলীকদমে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জমি কর্মচারীর দখলে

প্রকাশ: ২০১৮-০৬-২৮ ১৭:০০:২১ || আপডেট: ২০১৮-০৬-২৮ ১৭:০০:২১

আলীকদম (বান্দরবান) প্রতিনিধি: বান্দরবানের আলীকদমে পুরনো সরকারি স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ১০ শতক জমি স্বাস্থ্য বিভাগের এক কর্মচারীর অবৈধ দখলে রয়েছে অর্ধযুগের বেশি সময় ধরে।

উপজেলা প্রশাসন ও স্বাস্থ্য বিভাগ থেকে কয়েক দফা উদ্যোগ নিলেও কর্মচারীর গ্রাস থেকে জমি উদ্ধার হয়নি। প্রতি বছর স্বাস্থ্য বিভাগ বেদখল হওয়া ভূমির উন্নয়ন কর দিলেও ভোগদখলে রয়েছে একই হাসপাতালে কর্মরত সহকারী স্বাস্থ্য পরিদর্শক ইয়াছিন শরীফ ও তার স্ত্রীর দখলে। দখলদার এ দম্পতির খুঁটির জোর কোথায় সে প্রশ্ন উঠেছে সচেতন মহলে।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, ১৯৮২ সালে আলীকদম মানোন্নীত থানা ঘোষণার পর সরকারি অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি ২৮৮নং আলীকদম মৌজার ৬৪ শতক জমিতে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের অবকাঠামো নির্মিত হয়। সেই থেকে ৬৪ শতক জমি স্বাস্থ্য বিভাগের অধীনে ভূমি উন্নয়ন কর প্রদান করা হচ্ছে। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ৪ একর জমি এবং পুরনো স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ০.৬৪ শতক জমির ভূমি উন্নয়ন কর পরিশোধ করার রেকর্ড রয়েছে। এদিকে, ১৯৯৪ সালে উপজেলার চৌমুহুনীতে নির্মিত নতুন ভবনে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স স্থানান্তর হয়। এরপর থেকে পুরনো হাসপাতাল ও টিনশেড কোয়ার্টারগুলো খালি পড়ে থাকে। পরে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্মচারীরা অফিস আদেশমতে এসব খালি ঘরে বাসা ভাড়া নিয়ে থাকতে শুরু করেন। কয়েক বছর আগে হাসপাতালের কিছু জায়গায় উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা ভবন নির্মিত হয়। কিন্তু দখলদারকে উচ্ছেদ না করেই পুরনো হাসপাতালের জমির মাঝখানে ভবনটি নির্মিত হয়। এ ভবনের উত্তরে ১০ শতকের বেশি জমি অবৈধ দখলে থেকে যায়।

হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, তৎসময়ে পুরনো হাসপাতালের উত্তরের টিনশেড ঘরটি ভাড়া নেন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আয়া জোহরা বেগম। ২০০০ সালের দিকে এ আয়ার সঙ্গে সম্পর্ক নিয়ে এলাকায় বিতর্ক ও সাপ্তাহিক গণসংযোগ পত্রিকায় একটি সংবাদের জেরে তড়িঘড়ি করে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সহকারী স্বাস্থ্য পরিদর্শক ইয়াছিন শরীফ।

স্থানীয়দের অভিযোগ, এরপর থেকে স্বামী-স্ত্রী এ দুই কর্মচারী পুরনো হাসপাতালের বরাদ্দ নেয়া কোয়ার্টার এবং জমি নিজেদের দখলে নিতে অপতৎপরতা শুরু করেন। স্বাস্থ্য বিভাগের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের খামখেয়ালিপনার কারণে এক সময় এ দুই কর্মচারীর অপতৎপরতা বাস্তবে রূপ নেয়। ইচ্ছেমতো হাসপাতালের টিনশেড ঘরটির অবকাঠামোতে পরিবর্তন করা হয়। কোয়ার্টারসহ পার্শ্ববর্তী ০.১০ শতক জমি কথিত হেডম্যান রিপোর্ট নিয়ে দখলে চলে যায় গুণধর এ কর্মচারীরা।

জানা যায়, ২০১০ সালে আয়া পদ থেকে জোহরা বেগম অব্যাহতি নিয়েছেন। কিন্তু সরকারি কোয়ার্টারটি এখনও তার এবং স্বামী ইয়াছিন শরীফের দখলে আছে। পার্বত্য এলাকায় ভূমি ব্যক্তি পর্যায়ে বন্দোবস্ত বন্ধ থাকা সত্ত্বেও কথিত হেডম্যান রিপোর্ট সংগ্রহ করে অবৈধভাবে সরকারি কোয়ার্টার দখল করেছেন এ দুই সরকারি কর্মচারী।

দখলদার ইয়াছিন শরীফ বলেন, আমার এ জায়গা খাস। হেডম্যানকে দাখিলা ফি দিয়ে আমি দখলে আছি। কিছু কুচক্রী মহল আমাকে উচ্ছেদে ষড়যন্ত্র করছে। উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. শহিদুর রহমান বলেন, পুরনো হাসপাতালের কিছু জায়গা বেদখল হওয়ার বিষয়টি আমি জেনেছি।

Leave a Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

পূর্বের সংবাদ

January 2019
M T W T F S S
« Dec    
 123456
78910111213
14151617181920
21222324252627
28293031  

এই সপ্তাহের আলোকিত পাহাড় প্রথম পাতা

এই সপ্তাহের আলোকিত পাহাড় শেষ পাতা

বিজ্ঞাপন