খাগড়াছড়ি, , বৃহস্পতিবার, ১৩ ডিসেম্বর ২০১৮

আট বছর পর ছেলেকে পেয়ে খাগড়াছড়ির পুলিশ সুপারকে ধন্যবাদ জানালেন বাবা-মা

প্রকাশ: ২০১৬-১০-২২ ১৮:০২:২৮ || আপডেট: ২০১৬-১০-২২ ১৮:১৮:২৬

alokitopahar-1নিউজ ডেক্স: আট বছর পর ছেলেকে পেয়ে খাগড়াছড়ি জেলার পুলিশ সুপার মো: মজিদ আলী (বিপিএম সেবা)কে ধন্যবাদ জানালেন বাবা-মা। খাগড়াছড়ি জেলা সদরের শালবন এলাকার সরবত আলী ও ফাতেমা বেগমের ছেলে মো. নুরুল ইসলাম গত আট বছর থেকে নিখোঁজ ছিল। খাগড়াছড়ি জেলা পুলিশের এক প্রতিনিধি নুরুল ইসলামকে বাচপান বাঁচাও আন্দোলনের কাছ থেকে গ্রহণ করে। আজ বিকেল ৫টায় খাগড়াছড়ি পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে উদ্ধার হওয়া নুরুল ইসলামকে মা-বাবার কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করা হয়।

নুরুল ইসলামের মা ফাতেমা বেগম বলেন, আট বছর পর আমি আমার বুকের ধন ফিরে পেয়েছি। ছেলে নিখোঁজের পর অনেক খোঁজাখুঁজি করেও পাননি। তিনি বলেন, যখন ছেলের ফিরে পাওয়ার আসা ছেড়ে দিয়েছিলাম তখন (গত জুলাই মাসে) খাগড়াছড়ির পুলিশ সুপারের মাধ্যমে ছেলের সন্ধান পাই। যারা আমার ছেলেকে আমাদের বুকে ফিরে দিয়েছেন আল্লাহ তাদের মঙ্গল করুন।

সরবত আলীর তিন ছেলের মধ্যে নুরুল ইসলাম মেজো। অভাবের সংসার হওয়ায় তাকে বাড়ির পাশের খাগড়াপুর এলাকায় একটি চায়ের দোকানে কাজে দিয়েছিলেন বাবা। সেখান থেকে আট বছর আগে নিখোঁজ হয় নুরুল ইসলাম।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে নুরুল ইসলাম বলেন, বেশি বেতনের লোভ দেখিয়ে তাকে বরিশাল নিয়ে যাওয়া হয়। সেখান থেকে ঢাকা, তারপর কুমিল্লা সীমান্ত দিয়ে ভারত পাচার করে। ভারতে চায়ের দোকান ও খাবারের হোটেলে কাজ করত সে। মজুরির টাকা চাইলে তাকে মারধর করা হতো। তাই রাগ করে দিল্লি পালিয়ে যায়। দিল্লিতে ‘বাচপান বাঁচাও আন্দোলন’ নামে একটি সংগঠন তাকেসহ বেশ কয়েকজন শিশু শ্রমিককে উদ্ধার করে। পরে তার দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে চলতি বছরের জুলাই মাসে ভারতের বাংলাদেশ দূতাবাসের মাধ্যমে মো. নুরুল ইসলামের প্রথম সন্ধান দেয় সংগঠনটি।

খাগড়াছড়ি পুলিশ সুপার মো. মজিদ আলী (বিপিএম সেবা) বলেন, দিল্লির ‘বাচপান বাঁচাও আন্দোলন’র যোগাযোগ কর্মকর্তা পরমা আচার্যীর মাধ্যমে নুরুল ইসলামের অবস্থান জানতে পারি। তার কাছ থেকে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে দিল্লির বাংলাদেশের দূতাবাসে যোগাযোগ করা হয়। তার অভিভাবকের নাগরিকত্ব ও জাতীয়তা অনুসন্ধান করে তাকে দেশে ফিরিয়ে আনার কার্যক্রম শুরু হয়। অবশেষে সকল আনুষ্ঠানিকতা শেষে গত শুক্রবার যশোরের বেনাপোল চেকপোস্ট দিয়ে তাকে দেশে ফেরত আনা হয়।

এদিকে ছেলে নুরুল ইসলামকে ফিরে পেয়ে আনন্দে আত্মহারা মা-বাবা। তাকে এক পলক দেখার জন্য বাসায় আত্মীয়-স্বজন ও প্রতিবেশীসহ উৎসুক জনতা ভিড় করছেন।

Leave a Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

পূর্বের সংবাদ

December 2018
M T W T F S S
« Nov    
 12
3456789
10111213141516
17181920212223
24252627282930
31  

এই সপ্তাহের আলোকিত পাহাড় প্রথম পাতা

এই সপ্তাহের আলোকিত পাহাড় শেষ পাতা

বিজ্ঞাপন