খাগড়াছড়ি, , বুধবার, ২১ আগস্ট ২০১৯

অপরিকল্পিত মাটি কাটায় বিরান ভূমিতে ফসলের মাঠ

প্রকাশ: ২০১৯-০২-০৯ ১৮:১৬:০৬ || আপডেট: ২০১৯-০২-০৯ ১৮:১৬:১১

মোহাম্মদ রফিকুল ইসলাম, লামা (বান্দরবান) প্রতিনিধি: একের পর এক ফসলের মাঠ থেকে ব্রিকফিল্ড ও উন্নয়নের কথা বলে কেটে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে জমির মাটি। কয়েকটি স্কেভেটর দিয়ে দিনে-রাতে অনরবত চলছে এই মাটি কাটা। প্রতিদিন শতাধিক ডাম্পার ও ট্রাক দিয়ে পাচার হচ্ছে সহস্রাধিক গাড়ি মাটি।

অপরিকল্পিতভাবে মাটি কাটায় ফসলি জমি গুলো গর্ত হয়ে অনাবাদি হয়ে পড়ছে। দিনে দিনে পাল্টে যাচ্ছে এলাকার চিত্র। এমন চিত্রের দেখা মিলে বান্দরবানের লামা উপজেলার ফাঁসিয়াখালী ইউনিয়নের ২নং ওয়ার্ডের ফকিরাখোলা এলাকায়।

সরেজমিনে দেখা যায়, ফকিরাখোলা বিলে কয়েকটি স্কেভেটর ৪/৫ ফুট গভীর করে ফসলের জমি থেকে মাটি কাটছে। শতাধিক ডাম্পার ও ট্রাক সেই মাটি নিয়ে যাচ্ছে। এতে করে ফসলের জমি গুলো একেবারে ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। ইতিমধ্যে মাটি তুলতে গিয়ে শতাধিক একর জমি নষ্ট করেছে স্থানীয় ও চকরিয়া উপজেলার একটি বড় সিন্ডিকেট। তাদের ভয়ে এলাকার লোকজন কথা বলছেনা। সমগ্র এলাকা ধীরে ধীরে বিরান ভূমিতে রুপ নিচ্ছে। এইসব মাটি আশপাশের কয়েকটি ব্রিকফিল্ড ও চকরিয়ার রেল লাইনের রাস্তার কাজে ব্যবহার করছে বলে জানান স্থানীয়রা। অনরবত মাটি নেয়ার কারণে পুরো এলাকা সবসময় ধূলাবালিতে ঢেকে থাকে। বেপরোয়া মাটি ও বালুর গাড়ি চলাচলের কারণে হারগাজা ও ডুলহাজারা সড়কে সাধারণ মানুষ ও স্কুল কলেজের শিক্ষার্থীদের চলাফেরা করতে সমস্যা হচ্ছে। প্রতিনিয়ত ঘটছে দূর্ঘটনা। জমির মালিকরা সাময়িকভাবে লাভবান হলেও ওই এলাকার কৃৃষি, পরিবেশ, জনসাধারণের স্বাস্থ্য ও জীববৈচিত্র্য হুমকির মুখে পড়েছে।

নাম প্রকাশ না করা সত্ত্বে স্থানীয় কয়েকজন বলেন, ফকিরাখোলা গ্রামের আব্দু শুক্কর, আব্দুল্লাহ প্রকাশ কালা সোনা, সাকের উল্লাহ সহ কয়েকজনে ফসলের জমির মাটি বিক্রি করেছে। পার্শ্ববর্তী চকরিয়া উপজেলার ডুলহাজারা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান নুরুল আমিন এর নিয়ন্ত্রনে বার্মাইয়া দীল মোহাম্মদ সহ বড় একটি সিন্ডিকেট মাটি নিয়ে যাচ্ছে। এদিকে মাটির গাড়ি হতে ১শত টাকা করে টোল আদায় করছে কক্সবাজার জেলা প্রশাসন হতে পাগলির বিলের (চকরিয়া অংশের) বালুর ইজারাদার ফজলুল করিম সাঈদি, মো. এমরান এর সিন্ডিকেট। তারা চকরিয়া অংশের বালুর ইজারাদার হলেও পার্বত্য এলাকার মাটি ও বালু হতে টাকা নেয়। কোটি টাকার মাটি ও বালু পাচার হলেও তার থেকে বান্দরবান জেলা প্রশাসন কোন রাজস্ব পায়না। বালুর ইজারার টাকা তোলার দায়িত্বে থাকা ম্যানাজার বাবু জানায় স্থানীয় প্রশাসনকে ম্যানেজ করে তারা বালু ও মাটি নিচ্ছে।

মাটি কাটা জমির মালিকানা দাবিদার (একপক্ষ) রেজাউল করিম মানিক বলেন, এই জমি নিয়ে সাকেল উল্লাহ ও আব্দু শুক্কুর গংদের সাথে বিরোধ রয়েছে এবং হাইকোর্টে মামলা চলমান। আদালতের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে তারা মাটি কাটছে।
ডুলহাজারা ইউপি চেয়ারম্যান নুরুল আমিন বলেন, জমির মালিক (অপর পক্ষ) সাকের উল্লাহ ও আব্দু শুক্কুর আমাদের কাছে মাটি বিক্রি করেছে। টোল আদায়ের বিষযে জানতে ফজলুল করিম সাঈদীর মোবাইলে অসংখ্যবার ফোন করলেও তিনি কল রিসিভ না করায় তার বক্তব্য নেয়া যায়নি।

ফাঁসিয়াখালী ইউপি চেয়ারম্যান জাকের হোসেন মজুমদার বলেন, অপরিকল্পিতভাবে মাটি কাটার কারণে ইতিমধ্যে প্রায় কয়েকশত একর জমি আবাদের অযোগ্য হয়ে পড়েছে। আমি মাটি কাটার সাথে জড়িত দীল মোহাম্মদ, আব্দু শুক্কুর সহ কয়েকজনকে ডেকে মাটি কাটতে নিষেধ করেছি। দুই একদিন বন্ধ রেখে আবার কাটা শুরু করেছে। লামা উপজেলা নির্বাহী অফিসার এসে জমির মাটি কাটতে নিষেধ করেন। আদেশ অমান্য করে তারা কয়েকদিন পরে আবার মাটি কাটে। বিষয়টি বান্দরবান জেলা প্রশাসককে জানানো হবে।

এই বিষয়ে বান্দরবান জেলা প্রশাসক মো. দাউদুল ইসলাম সাংবাদিককে বলেন, বিষয়টি জেনে ব্যবস্থা নিতে লামা উপজেলা প্রশাসনকে বলা হবে।

Leave a Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

পূর্বের সংবাদ

August 2019
M T W T F S S
« Jul    
 1234
567891011
12131415161718
19202122232425
262728293031  

এই সপ্তাহের আলোকিত পাহাড় শেষ পাতা

বিজ্ঞাপন